কবি ইউসুফ মানসুর

আয়াতে আশার আলো-কবি ইউসুফ মানসুর

ফিচার-সাহিত্য
Share
  • 433
    Shares
 
পৃথিবীতে আশা-স্বপ্ন-সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমার কাছে আল কুরআনুল কারীম এক অদ্বিতীয় মহান গ্রন্থ।
আমার মনে সামান্যতম হতাশার সৃষ্টি হলে আমি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের দারস্থ হই আত্বসমর্পিত হৃদয়ে। 
কুরআন আমার সকল দুঃখ- কষ্ট – হতাশাকে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো করে দূরে বহুদূরে আমার চিন্তারও অগোচরে নিয়ে যায়।
আজ আমি এই নিবন্ধে এমনই দু’টি আয়াত নিয়ে আলোচনা করব যেগুলি  জীবনে চলার পথে আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। আশার সম্বল দিবে।
এক- আমাদের কল্পনার চেয়েও পৃথিবী অনেক বড়।
إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلآئِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ قَالُواْ فِيمَ كُنتُمْ قَالُواْ كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ فِي الأَرْضِ قَالْوَاْ أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللّهِ وَاسِعَةً فَتُهَاجِرُواْ فِيهَا فَأُوْلَـئِكَ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَسَاءتْ مَصِيرًا
যারা নিজের অনিষ্ট করে, ফেরেশতারা তাদের প্রাণ হরণ করে বলে, তোমরা কি অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, এ ভূখন্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলে, আল্লাহর পৃথিবী কি প্রশস্ত ছিল না? যে, তোমরা দেশত্যাগ করে সেখানে চলে যেতে? অতএব, এদের বাসস্থান হল জাহান্নাম এবং তা অত্যন্ত মন্দ স্থান। (সূরা নিসা: ৯৭)
নানা কারণে আমদের জীবনে যখন হতাশা সৃষ্টি হয়, আমরা থমকে যাই তখন এই আয়াতটি আমাদের সামনে আশার আলো নিয়ে উপস্থিত হয়।
হয়তো সবেমাত্র আপনি চাকরি হারিয়েছেন বা কোনও পরীক্ষায় ফেল করেছেন অথবা পারিবারিক কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন কিংবা আপনি বুঝতে পেরেছেন যে, কয়েক মাস ধরে আপনি যে স্বপ্নের প্রকল্পে কাজ করছেন তা সবেমাত্র ভেঙে পড়েছে।
এই সময়গুলিতে আমদের হৃদয় অনেক আহত হয় এবং এসময় আমাদের কিছু অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয়।
ক্যারিয়ার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে আপনি হয়ত ভাবতে লাগলেন যে, আমার পক্ষে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়, আমি হয়ত আর কোনো কাজের জন্য ফিট না।
উপরের আয়াতটি এখানেই আপনার সামনে আশার আলো মেলে ধরবে।
আপনার জন্য বিস্তৃত দুনিয়া পড়ে আছে; বিস্তৃত কাজের সুযোগ আপনার সামনে আছে।
যেকোনো একটা সমস্যায় আপনি কেন ভেঙ্গে পড়বেন?
উঠে দাড়ান এবং অন্য কোনো সুযোগের সন্ধান করুন। ইনশাআল্লাহ সফলতা আপনাকে ধরা দেবেই।
মনে রাখবেন, আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনি আপনার জন্য সর্বদাই ভালো ফয়সালা করেন। তাই আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে অন্য কোনো সুযোগের সন্ধান করুন।
দুই-আমাদের উদ্দেশ্য মনে রাখা
 فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ
অতএব, তোমরা (সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে) কোথায় যাচ্ছ?
إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِّلْعَالَمِينَ
এটা তো কেবল বিশ্বাবাসীদের জন্যে উপদেশ,
لِمَن شَاء مِنكُمْ أَن يَسْتَقِيمَ
তার জন্যে, যে তোমাদের মধ্যে সোজা পথে চলতে চায়।
وَمَا تَشَاؤُونَ إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।  ( সূরা আত তাকবির: ২৬-২৯)
আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
আল্লাহর কর্তৃত্ব, ক্ষমতা এবং শক্তির সামনে সবকিছুই অসহায়, অক্ষম। 
তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমরা কোথাও আটকা পড়েছি এবং আমাদের নিজের জীবনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, বরং এটি একটি অনুস্মারক।
যখনই আপনি মনে করবেন যে, আপনি কোনো কর্মের মাধ্যমে বিপথগামী হচ্ছেন বা অসহায় বোধ করছেন, তখনই আল্লাহর উপস্থিতিকে আপনার সাথে কল্পনা করুন। এটি আপনাকে যেকোনো কাজে সর্বাধিক অনুপ্রাণিত করবে।
বারবার স্বরণ করুন সূরা আত – তাকবিরের শেষ আয়াত
 وَمَا تَشَاؤُونَ إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না।
  •  
    433
    Shares
  • 433
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *